কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল এলাকার মানুষ যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে টংঘর বেঁধে আশ্রয় নিয়েছে। অতিবৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি উপচে জলাবদ্ধতা বেড়ে নতুন করে মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। বৃষ্টির পানি বাড়ার কারণে জলাবদ্ধ পরিবারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকার নদ-নদী পলিতে ভরাট হওয়ার পাশপাশি অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে সুষ্ঠুভাবে পানি প্রবাহ হতে না পেরে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার সরেজমিন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যকুল এলাকায় দেখা যায়, সরদার পাড়ার মানুষের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি। একইভাবে এক নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর সাহাপাড়া সড়কটিতেও উঠে এসেছে জলাবদ্ধতার পানি। যশোর-চুকনগর সড়কের মধ্যকুল আমতলা এলাকায় জলাবদ্ধ মানুষ টংঘর বেঁধে আশ্রয় নিচ্ছে।
টংঘরের পাশে দাঁড়িয়ে মধ্যকুল এলাকার হামিদা খাতুন (৪০) বলেন, “এক মাস ধরে এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি হওয়ায় পানি বেড়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। যে কারণে যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে ১৫০টি পরিবার টংঘর বেঁধে আশ্রয় নিতে হয়েছে।”
একইভাবে ওই এলাকার ভ্যানচালক জিন্নাত আলী বলেন, “ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে রাস্তায় এসে টংঘর বাধছি। অনেকেই এভাবেই টংঘর বেঁধে আশ্রয় নিয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “তাদের খাওয়ার পানি ও রান্নার জায়গার অভাব রয়েছে।”
এলাকার সাবেক পৌর কাউন্সিলর আয়ুব খান বলেন, জলাবদ্ধ মানুষ সাহায্য চান না, তারা জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চায়। বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকাটি জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মৎস্য ও কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
কেশবপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফজল মোঃ এনামুল হক বলেন, “পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অতিবৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি ঢুকে এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম